মাত্র আড়াই মিনিটে বিশুদ্ধ হবে পানি !!

রইসউদ্দিন রাকিব

উদ্ভাবিত হলো দূষিত পানি এবং সামুদ্রিক পানি বিশুদ্ধকরণের এক নতুন প্রযুক্তি! সবচেয়ে চমকপ্রদ খবর হচ্ছে, বিশুদ্ধকরণের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া্টি সম্পন্ন হতে সময় লাগবে মাত্র হাতে গুনে আড়াই মিনিট! সম্প্রতিই এক দল মেক্সিকান প্রকৌশলী পানি বিশুদ্ধকরণের এই নতুন পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাসা-বাড়ি, হোটেল, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা ইত্যাদি জায়গা থেকে নির্গত দূষিত পানি মাত্র আড়াই মিনিটে বিশুদ্ধ করা যাবে। এর মাধ্যমে পানি থেকে যাবতীয় দূষিত রাসায়নিক উপাদানের পাশাপাশি ক্ষতিকর অনুজীবদেরও অপসারণ করা সম্ভব হবে। এই পদ্ধতিটিতে, পানির সাথে মূলত একটি রাসায়নিক মিশ্রণ প্রয়োগ করা হয়। গবেষকগণ  ৮ টি আলাদা আলাদা রাসায়নিক উপাদান একত্র করে মিশ্রণটি তৈরি করেছেন। বিভিন্ন ধরণের দূষিত পানিতে মিশ্রণটি মিশিয়ে, নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন, ঐ গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রণটিতে কোন উপাদান ঠিক কতটুকু মেশালে দূষিত পানি পরিপূর্ণরূপে বিশুদ্ধ হবে।water purification

সবচেয়ে আশার কথা হল, এই প্রযুক্তিটি পরিবেশ এবং মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোন গ্যাস, বিষাক্ত পদার্থ এমন কি কোনো গন্ধ পর্যন্ত নির্গত করবে না! এক কথায় এটি একটি পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি। গবেষণা প্রকল্পের জন্য প্রকৌশলি দলের প্রতিষ্ঠানটি (জস্টোব্লাক করপোরেট) তাদের নিজস্ব অফিসেই একটি পরীক্ষামূলক প্লান্ট স্থাপন করেছে। প্রক্রিয়াটির প্রথম ধাপে দূষিত পানিকে একটি সংগ্রাহক ট্যাঙ্কে পাঠানো হয় যেখানে পরিমান মত বিশুদ্ধকরণের জন্য সেই রাসায়নিক মিশ্রণটি রাখা থাকে। এখানে জৈব এবং অজৈব দূষণের সাথে ক্ষতিকর ভারী ধাতুগুলোও নিষ্কাশিত হয়ে যায়। সংগ্রাহক  ট্যাঙ্কের নিচে দূষণ সৃষ্টিকারী পদার্থ গুলো জমা হয়। এই অধঃক্ষেপ থেকে উপাদান গুলোকে আলাদা করে সার শিল্পে ব্যবহারের জন্য রাখা হয় এবং ধাতব পদার্থ গুলোকে নির্মাণ কাজে ব্যবহারের জন্য পাঠানো হয়। সংগ্রাহক ট্যাঙ্ক থেকে পানি পর্যায়ক্রমে পরিশোধক ট্যাঙ্ক এবং ছাঁকন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বড় ধারক পাত্রে পাঠানো হয়। এখানে বিশুদ্ধতা নিশ্চিতের জন্য পানিতে ওজোন (O3) যোগ করা হয়। এর পর এই পানি পান করার জন্য পুরোপুরি তৈরি হয়ে যায়। জস্টোব্লাক করপোরেট এর গবেষকরা আরো বলেন- তাঁরা প্রায় ৫০ টি ভিন্ন ভিন্ন দূষিত পানির উপর পরীক্ষাটি পরিচালনা করেছেন, যা মেক্সিকোর স্বীকৃতি সংস্থা (ই.এম.এ) সহ বিভিন্ন সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান থেকে উঁচু মানের সনদ পেয়েছে।

সূত্রঃ সাইন্স ডেইলি।

আরো দেখান

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button

Discover more from EnvironmentMove.earth

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading