হাতি কথন !

ফারজানা হালিম নির্জন

মহাবিশ্বকে একটি আস্তো সাধারণ জ্ঞানের বই হিসেবে কল্পনা করুন তো! কতটুকু পড়া হয়েছে? খুব সামান্যইনয় কি? হুট করে এর উপর কোন পরীক্ষা নিয়ে নিলে কী হবে! আমিতো নিশ্চিত; ১০০ তে ০.০০১ ও পাবোনা। আসলে এই বই কখনো কেউ পুরোটা পড়তেও পারেনা। কারণ সময়টা যে খুব সামান্য! আর এর নতুন নতুন সংকলন তো প্রতি ন্যানো সেকেন্ডে ছড়িয়ে পড়ছে সব জায়গায়।তবু আমাদের জানার আগ্রহ একটুও দমে যায়না। জানতে ইচ্ছে করে,জানতে হয় অনেক কিছুই। জানা-অজানার এই বিশাল আঙ্গিনায় আজ একটি অতি পরিচিত বিশাল প্রাণি সম্পর্কেই চলুন না জেনে ফেলি কিছু টুকটাক,কিন্তু মজার সব তথ্য! hatiiiiiii

  • সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে হাতি কিন্তু সত্যিকার অর্থেই এখন মাটিতে বসবাসকারী সবচেয়ে বড় প্রাণি!সবচেয়ে বড় হাতির রেকর্ডটি আছে আফ্রিকান এক পুরুষ হাতির দখলে। লম্বায় যা ১৩ ফুট। আর ওজন? ২৪,০০০ পাউন্ড!
  • দেহের ওজনে সবার থেকে এগিয়ে থাকলেও এদের আয়ুষ্কাল সেই তুলনায় কমই বলা চলে। তবুও হাতিরা ৭০ বছরের বেশি সময় পর্যন্ত বাঁচতে পারে।
  • একমাত্র স্তন্যপায়ী প্রাণি, যা লাফাতে পারেনা! এতো ওজন নিয়ে বেচারা লাফাবেই বা কী করে বলুন!
  • ওদের মস্তিষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের তুলনায় ৩-৪ গুণ বড় এবং মস্তিষ্ক খুবই উন্নত।
  • তাদের ঘ্রাণ শক্তি ভয়াবহ রকমের প্রখর। বিড়াল-কুকুর তাদের ঘ্রাণ শক্তি্র জন্য বেশ প্রশংসিত। কিন্তু আপনি কি জানেন? হাতি কিন্তু তাদেরকেও ছাড়িয়ে গেছে!
  • ১০ মাস ১০ দিন গর্ভধারণের পর মনুষ্য সন্তান মায়ের কষ্টকে মুক্তি দেয়। কিন্তু হাতির বেলায়? এই ক্ষেত্রেও মা হাতিরা স্তন্যপায়ীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধৈর্যের পরীক্ষা দেয়। তারা সন্তানকে গর্ভে ধারণ করে প্রায় ২২ মাস !
  • হাতিদের পা বেশ নরম আর তুলতুলে আবরণে আবৃত থাকে। এ কারণেই তারা এতো বড় শরীরটা নিয়ে প্রায় নিঃশব্দে হাঁটতে পারে।
  • ভালোবাসা,মমতা,রাগ,কষ্ট এই আবেগগুলো কি শুধু আমাদের জন্যই? হাতিরাও কিন্তু কাঁদে,হাসে। তাদের কোনো বন্ধু অনেকদিন পর দলে ফিরে এলেতাকে অভ্যর্থনা জানায়। ওরা খেলা-ধূলাও করে। সাঁতার কাঁটে।
  • আপনি কি জানেন? হাঁটতে হাঁটতে যদি অন্য কোনো হাতির মৃত দেহ ওদের চোখের সামনে পড়ে,তখন তারা কিছুক্ষণের জন্য থামে। চুপচাপ নীরবতা পালন করে সেই সময়টায়। কে জানে,হয়তো নীরবে চোখের জলও ফেলে। এতো বড় শরীরটার মাঝে মায়া-মমতাও যে কম পরিমাণে হবেনা,তা তো খুব সহজেই অনুমান করা যায়,তাইনা?

আরো দেখান

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button

Discover more from EnvironmentMove.earth

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading