সবুজ পাহাড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কফি চাষ
নাস্তার টেবিলে এক কাপ কফি নাস্তার আমেজটাই বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। এক সময় ল্যাটিন আমেরিকার কফির খ্যাতি ছিল সারা দুনিয়া জুড়ে। বাংলাদেশে কফি চাষ খুব একটা বেশি দিনের না হলেও তা ধীরে ধীরে দখল করে নিচ্ছে চায়ের জায়গা। তবে পাবর্ত্যাঞ্চলে সীমিত আকারে শুরু হয়েছে কফি চাষ। পাহাড়ে কফি চাষে যারা এগিয়ে এসেছেন তাদের মধ্য অন্যতম খাগড়াছড়ি’র রামগড় উপজেলার বড়পিলাক গ্রামের মোঃ নুর হোসেন। ২০০১সালে সীমিত আকারে কফি চাষ শুরু করে এরই মধ্যে সফলতা অর্জন করেছেন তিনি। নুর হোসেন জানান, ১৯৮০ সালে সরকার তাকে ৩ একর জায়গা দিয়েছে। বর্তমানে সে বড়পিলাক গ্রামে উক্ত জায়গার উপর বসবাস করছে। কিন্তু তার জমি ধান চাষের উপযোগী না হওয়ার কফি চাষ শুরু করেন তিনি। চলতি বছরে তিনি ৭৫কেজি কফি বিক্রি করে ৩০ হাজার টাকা আয় করেন। ১৯৯৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বিনামূল্যে তাকে ২শ টি কফি চারা প্রদান করেন। এভাবেই নুর হোসেন তার পতিত জমিতে কফিসহ মিশ্র ফলবাগান গড়ে তুলেন। পরবর্তীতে ১৫ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারী সিন্দুকছড়ি আর্মি জোন আধিনায়ক লে: কর্ণেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী নুর হোসেনের বাগানে কিছু কফির চারা ও পানি সেচ দেওয়ার জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করেন বলে তিনি জানান। এছাড়াও জেলার দিঘীনালা উপজেলার বাবুছড়া এলাকার সুজন চাকমাও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগীতায় একটি কফি বাগান গড়ে তুলেন। বর্তমানে সে খুব সুখি এবং চলতি বছর তার বাগানের ৫০ কেজি কফি বিক্রি করে ২০ হাজার টাকা আয় করেছেন বলে জানান তিনি। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ৮টি উপজেলায় তারা ২০০১ সালে ১২৪৪ কোটি টাকার পূর্নবাসন কর্মসুচীর আওতায় ১৩শ ৫০ একর জমিতে ২০ হাজার কফি চারা রোপন করা হয়। এ কর্মসূচীর আওতায় ৪৫০টি পরিবারকে পূর্নবাসন করা হয় এর মধ্যে বাঙ্গালী পরিবারের সংখ্যা ১শটি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প পরিচালক মোঃ সফিকুল ইসলাম জানান, কফি চাষ চাষীদের জন্য খুবই লাভজনক। এবার খাগড়াছড়ি জেলার কফি বাগানগুলোতে ১৫শ কেজি কফি উৎপন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আগামীতে এর পরিমান মৌসুমে ২ থেকে ৩ হাজার কেজিতে পৌছবে বলে জানান তিনি। কিন্তু প্রক্রিয়াজাতকরণ প্লান্ট না থানায় কৃষকদের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রক্রিয়াজাতকরণ প্লান্ট না থাকায় চাষীরা ন্যায্য মূল্যও পাচ্ছেনা। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কফি প্রক্রিয়াজাতকরার জন্য প্লান্ট স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। একাধিক চাষীরাদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে কফি চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যেই চাষীরা কফি চাষ করে সাফলতা অর্জন করেছে তারা। তবে অজ্ঞতা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি না জানার কারণে স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে কফি চাষ করছে। চলতি বছরে তাদের কফি উৎপাদন সন্তোষজনক। পার্বত্য এলাকায় উৎপাদিত কপির দাম অন্যান্য ফসলের তুলনায় অনেক বেশি। এ বিষয়ে রামগড় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: আব্দুর রহিম জানান, কফি চারা রোপনের ৪-৫ বছরের মধ্যে ফলন শুরু হয় এবং টানা ১৫-২০ বছর পর্যন্ত ফলন দেয় বলে। তিনি আর জানান, পাবর্ত্য চট্্রগ্রামের মাটি কফি চাষের জন্য খুবই উপযোগী।
সূত্রঃ দৈনিক গণকন্ঠ ১১/০৪/২০১৩ ইং