‘ভালোবাসায় শত্রুর গ্রেনেডের জবাব’

ফারজানা হালিম নির্জন

ইসরাঈল-ফিলিস্তিন সীমান্ত। সীমান্তের এক প্রান্তে ক্ষিপ্ত ইসরাঈলীরা,অন্যপ্রান্তে মুক্তিগামী ফিলিস্তিনিরা। যুদ্ধের সাজ-পোশাকে তৈরী সবাই। ইসরাঈলের পক্ষ থেকে ছুড়ে মারা হচ্ছে শত শত গ্রেনেড। ফিলিস্তিনিরাও পাল্টা জবাব দেয়ার চেষ্টা করছে। ইসরাঈল-ফিলিস্তিনের অবিচ্ছিন্ন আকাশে গ্রেনেডের ছোড়াছুড়ি। কী ভয়ংকর দৃশ্য! বারুদ ভর্তি এক একেকটি গ্রেনেড নিমিষেই ধ্বংস করে দিচ্ছে শত শত স্বপ্ন। রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছে সীমান্তের এপার-ওপার,কোথাও বেশি কোথাও কম। স্তুপের পর স্তুপ জমা হচ্ছে গ্রেনেড। অবিরাম ধ্বংসযজ্ঞে লিপ্ত এই গ্রেনেড কি কখনো জানতো,গায়ে ভালোবাসার পরশ বুলিয়ে তার মাঝে কেউ নতুন জীবনের সঞ্চার করতে পারে? আর যুদ্ধ নয়,শান্তি ও ভালোবাসা ফিরিয়ে আনার বার্তা আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে দিতে তাই এই ক্ষেপণাস্ত্র গ্রেনেডকেই ব্যবহার করলেন এক ফিলিস্তিনি নারী। Palestine image
ফিলিস্তিনের রামাল্লাহ শহরের কাছেই একটি গ্রাম, বিল’ইন। সেই গ্রামের একজন বয়স্ক নারী; অবিরাম রক্ত-যুদ্ধ দেখতে দেখতে যার জীবণের অধিকংশ সময় নষ্ট হয়ে গেছে। হয়তো সোনালী শৈশবই তার জীবনের একমাত্র সুখস্মৃতি। সেই প্রাপ্তি থেকেই কিনা,তিনি হাজারো ধ্বংসলীলার মাঝে নতুনভাবে জীবনের অর্থ খুঁজে পেলেন। আতংক-গ্রস্থ জীবণের শেষ ভাগে এসে স্বপ্ন দেখলেন,দেখালেন অসহায় মানুষগুলোকে। একদিন সব যুদ্ধের অবসান হবে। প্রাণ-ভরে নিঃশ্বাস নেবো সবাই নিজ নিজ ভু’খন্ডে। যেমন করে স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে উঠে নতুন চারাগাছ। সেই স্বপ্নকেই নিবিড় মমতায় বাস্তবের সাথে মিশিয়ে প্রকাশ করেছেন তিনি। সীমান্ত-বর্তী ফিলিস্তিনি এলাকা,যা প্রায় দু’বছর আগে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে,সেখানে তিনি একটি বাগান করলেন। বাগানে নানা ধরণের ফুলের গাছ। কিন্তু প্রত্যেকটি গাছ লাগানো হয়েছে ফিলিস্তিন-ইসরাঈল সংঘর্ষে ব্যবহৃত গ্রেনেডের ভেতর! কিছুক্ষণ আগেই যা ধ্বংসের লীলায় মেতে উঠেছিলো,তারই ভেতর জন্ম নিলো নতুন একটি প্রাণ! ভালোবাসা আর সঠিক পরিচর্যা পেয়ে গাছগুলো ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে। শান্তির প্রতীক হয়ে নানা রঙের ফুল ফুঁটছে সেখানে। গ্রেনেডে জন্ম নেয়া কিছু কিছু ফুলগাছকে তিনি ঝুলিয়েছেন ফিলিস্তিন-ইসরাঈল সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ায়।Palestine image 1 ছবির দৃশ্যটি চোখে পড়া মাত্র,শরীরের শির-দাড়া বেয়ে শীতল স্রোত বয়ে যায়। কাঁটাতারের মাঝে কী গভীর এক অর্থ নিয়ে দুলে দুলে ঝুলছে গ্রেনেডে জন্ম নেয়া এক একটি ফুলগাছ ! বর্ণিল এই ফুলগুলোর মাতাল করা সৌন্দর্য আর সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে কাঁটাতারের দুপ্রান্তে। পবিত্র এই সুবাস কি ভালোবাসার অস্ত্র দিয়ে ভাগাভাগি করে নিতে পারবে ইসরাঈল-ফিলিস্তিন ভু-খন্ডের সকল মানুষ ?

আরো দেখান

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button

Discover more from EnvironmentMove.earth

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading