ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারী রক্ষায় পরামর্শক সভা অনুষ্ঠিত

আজ শনিবার সকালে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেট শাখা এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পাথর বহনকারী বারকী শ্রমিক সমবায় সমিতি লিঃ- এর যৌথ আয়োজনে সিলেটের এক হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় ‘ধলাই নদী ও ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারী রক্ষায় করনীয় শীর্ষক পরামর্শক সভা’।

ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারী এলাকা বাংলাদেশের অন্যতম একটি পাথর কোয়ারী। প্রতিদিন এখান থেকে সংগৃহিত হয় হাজার হাজার টন পাথর। সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের পাশাপাশি বোমা মেশিনের সাহায্যে উত্তোলিত হচ্ছে এই পাথর। যদিও হাইকোর্টের আদেশে বোমা মেশিন ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিন্তু তারপরো হাইকোর্টের আদেশ অবজ্ঞা করে এখানে প্রতিনিয়ত চলছে বোমা মেশিনের ব্যবহার। এ ব্যাপারে করনীয় ঠিক করতে এই পরামর্শক সভার আয়োজন বলে জানালেন বারকী শ্রমিক সম্বাত সমিতির সাধারন সম্পাদক জনাব মোঃ আব্দুল আউয়াল।

 উল্লেখ্য ‘বারকী শ্রমিক’ বলতে বোঝানো হয় যারা সনাতন পদ্ধিতে যারা পাথর উত্তোলন করেন তাদেরকে। jaflong-22

 বাপা সিলেট শাখার সহ সভাপতি এডভোকেট এমাদউল্লাহ শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় এ সভায় উপস্থিত ছিলেন- শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুর ও পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জহির বিন আলম, নৃ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল বিশ্বাস, সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় কৃষ্ণ বিশ্বাস, গ্রিন এক্সপ্লোর সোসাইটি’র সভাপতি অনিমেষ ঘোষ, প্রবীন আইনজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মুজিবুর রহমান সহ বাপা সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের নেতৃবৃন্দ। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এনামুল হাবিব এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ ইব্রাহীম ও বাপা’র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শরীফ জামিল। এছাড়া এ সময় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পাথর বহঙ্কারী বারকী শ্রমিক সমবায় সমিতি লিঃ- এর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 আলোচনায় বক্তারা সমস্যা’র সমাধানের ব্যাপারে আলোকপাত করেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘বোমা মেশিন’ ব্যবহার বন্ধে পরিবেশ অধিদফতরের উদাসীনতার প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে পুলিশের কার্যকর কিছুই করনীয় নেই বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। পরবর্তীতে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে এনামুল হাবিব বলেন পুলিশ চাইলেই এই ধরনের বোমা মেশিন বন্ধে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, এখানে পরিবেশ অধিদফতর মামলা করল কী না তা মুখ্য নয়।

 শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুর ও পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জহির বিন আলম   এ সময় বারকী সমিতি’র নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যার মাধ্যমে পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করেই সনাতন পদ্ধতির তুলনায় অধিক পাথর আহরন করা সম্ভব। আপনারা চাইলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আপনাদের এ ব্যাপারে সাহায্য করতে পারি’।

 বাপা’র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শরীফ জামিল বারকী শ্রমিক সমবায় সমিতি’র উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ আপনারা বোমা মেশিনের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে সচেতনতা গড়ে তুলুন। প্রয়োজনে আমরা ঢাকা থেকে আপনাদের সাহায্য করতে ভোলাগঞ্জ আসব’।

 উল্লেখ্য, ভোলাগঞ্জে পাথর কোয়ারীতে বোমা মেশিন স্থাপনে স্থানীয় প্রশাসনের কতিপয় অসাধু ব্যক্তি ও সন্ত্রাসীদের মদদে দীর্ঘদিন ধরে বোমা মেশিনের ব্যবহারের মাধ্যমে চলে আসছে পাথর উত্তোলন। এতে করে ভোলাগঞ্জের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ধলাই নদী’র গতিপ্রকৃতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া এভাবে পাথর উত্তোলনের কারনে পাশ্ববরতী খাসিয়া পাহাড়ে পড়বে এর বিরূপ পেওভাব- যা কিনা পাহাড় ধসের মত ঘটনা ঘটাতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের আশংকা।

​ সবশেষে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এই ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহবান জানান এবং মোমা মেশিন বন্ধে সব ধরনের সহযোগীতা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন।

এনভাইরনমেন্টমুভ ডটকম ডেস্ক

আরো দেখান

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button

Discover more from EnvironmentMove.earth

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading