মেট্রোরেল কী ঢাকাকে আরও গরম করে তুলছে ?
ঢাকার মেট্রোরেল আমাদের শহরের জন্য বড় স্বস্তি। মিরপুর বা উত্তরা থেকে সহজেই অফিস কিংবা ব্যবসায় শেষ করে সময়মতো ঘরে ফিরে যাচ্ছেন হাজারো মানুষ। যানজট কমছে, সময় বাঁচছে, যাতায়াত সহজ হচ্ছে। কিন্তু এর আরেকটি দিক নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠে এসেছে একটি সাম্প্রতিক গবেষণায়।
মেট্রোরেলের উঁচু কংক্রিটের কাঠামো কি ঢাকার কিছু এলাকা আরও গরম করে তুলছে? এমন প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে এনভায়রনমেন্টাল চেলেঞ্জেস (Environmental Challenges) জার্নালে প্রকাশিত “Impact of elevated transportation infrastructure on urban thermal environment in Dhaka Megacity, Bangladesh” শীর্ষক গবেষণায়। এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন ফারহাদ হোসেন, জানিফার হাকিম লুপিন, মো. মাহিন উদ্দিন, মো. ইউসুফ গাজী, মো. জিল্লুর রহমান এবং এ. এস. এম. মাকসুদ কামাল। তাঁরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত।

ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে গরম শুধু অস্বস্তির বিষয় নয়। এটি জনস্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ব্যবহার, শ্রমক্ষমতা, নগর পরিকল্পনা এবং জলবায়ু সহনশীলতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। মেট্রোরেল যানজট কমাতে পারে, কিন্তু যদি এর নকশা ও নির্মাণ শহরের তাপদ্বীপ প্রভাব বাড়ায়, তাহলে ভবিষ্যতের পরিবহন প্রকল্পে সবুজ অবকাঠামো যুক্ত করা জরুরি।
গবেষণার মূল প্রশ্ন ছিল: ঢাকার এমআরটি লাইন-৬ বা উঁচু মেট্রোরেল করিডর কি ঢাকার গরম বাড়ানোর একটি “তাপ করিডোর” হিসেবে কাজ করছে? সহজ করে বললে, মেট্রোরেলের কারণে রাস্তার পাশের গাছপালা কমেছে, নতুন কংক্রিটের উঁচু কাঠামো তৈরি হয়েছে, এই পরিবর্তনগুলো মেট্রোরেল করিডর ও আশপাশের এলাকার তাপমাত্রা বাড়িয়েছে কি না, বাড়ালে কতোটা বাড়িয়েছে, এটাই ছিলো গবেষণার কেন্দ্রীয় বিষয়। গবেষণাটি করা হয়েছে ঢাকার এমআরটি লাইন-৬ বা মেট্রোরেল রুট ঘিরে। এই রুটটি উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ। মেট্রোরেল লাইনটির দুই পাশে ৫০০ মিটার করে এলাকা গবেষণায় বিবেচনা করা হয়েছে। কারণ গবেষকেরা শুধু মেট্রোরেলের নিচের অংশ নয়, আশপাশের এলাকাতেও তাপমাত্রা ও সবুজের পরিবর্তন হয়েছে কি না, সেটি দেখতে চেয়েছেন। এই রুটটি মিরপুর, আগারগাঁও, ফার্মগেট, শাহবাগ ও মতিঝিলের মতো ব্যস্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে গেছে। গবেষকেরা ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পরিবর্তন দেখেছেন। এই সময়ের মধ্যে মেট্রোরেল নির্মাণের আগের অবস্থা, নির্মাণের সময়ের অবস্থা এবং নির্মাণ শেষের পরের অবস্থা, তিনটি সময়ই মোটামুটি ধরা পড়েছে। তাই গবেষণাটি থেকে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে, মেট্রোরেল তৈরির আগে ও পরে ওই এলাকার তাপমাত্রা ও সবুজ আচ্ছাদনে কী ধরনের পরিবর্তন হয়েছে।

গবেষকেরা মূলত স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে মেট্রোরেল এলাকার পরিবর্তন দেখেছেন। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ল্যান্ডস্যাট-৮ স্যাটেলাইট থেকে ল্যান্ড সার্ফেস টেম্পারেচার ছবি দিয়ে তাঁরা ভূমিপৃষ্ঠ কতটা গরম হয়েছে, তা হিসাব করেছেন। গাছপালা বা সবুজ আচ্ছাদন কতটা আছে, তা বোঝার জন্য তাঁরা র্যাপিডআই ও প্লানেটস্কোপ স্যাটেলাইটের ছবি ব্যবহার করেছেন। এসব ছবির সাহায্যে দেখা হয়েছে, কোন এলাকায় সবুজ কমেছে, আর কোন এলাকায় তাপমাত্রা বেড়েছে। এর বাইরে গবেষকেরা Google Earth ও Google Street View-এর পুরোনো ছবি, সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি, এবং মাঠ পর্যায়ে তোলা ছবিও ব্যবহার করেছেন। এগুলো দিয়ে মেট্রোরেল নির্মাণের আগে ও পরে রাস্তার দৃশ্য, গাছপালার পরিবর্তন এবং কংক্রিট কাঠামোর উপস্থিতি বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া বৃষ্টি ও বাতাসের তাপমাত্রার তথ্যও নেওয়া হয়েছে, যাতে বোঝা যায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে শুধু আবহাওয়া কাজ করেছে, নাকি ভূমির ব্যবহার ও অবকাঠামোগত পরিবর্তনও ভূমিকা রেখেছে। সহজভাবে বললে, গবেষণায় তিন ধরনের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে: স্যাটেলাইট ছবি, বাস্তব দৃশ্যের ছবি, এবং আবহাওয়ার তথ্য। এগুলো একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, মেট্রোরেল করিডর ও আশপাশের এলাকায় ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তাপমাত্রা ও সবুজ আচ্ছাদনে কী ধরনের পরিবর্তন হয়েছে।

গবেষণাটি বলছে, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ঢাকার MRT Line-6 বা মেট্রোরেল করিডরের ভূমির পৃষ্ঠতাপমাত্রা বেশ বেড়েছে। সহজভাবে বললে, মেট্রোরেল রুটের আশপাশের রাস্তা, কংক্রিট, খোলা জায়গা বা ভবনের পৃষ্ঠ আগের চেয়ে বেশি গরম হয়েছে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এই এলাকায় তাপমাত্রা প্রায় ৩ থেকে ৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়েছে। ২০১৫ সালে, অর্থাৎ বড় নির্মাণকাজ শুরুর আগে, মেট্রোরেল করিডরের গড় পৃষ্ঠতাপমাত্রা ছিল প্রায় ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০২০ সালে, যখন মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ অনেক বেশি সক্রিয় ছিল, তখন তাপমাত্রা হঠাৎ অনেক বেড়ে যায়। ২০২৩ সালেও এই তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে উঁচু অবস্থায় থাকে। একই সময়ে ওই এলাকায় গাছপালা ও সবুজ আচ্ছাদন কমে গেছে। গবেষণায় আরও দেখা যায়, আগে যেসব জায়গায় গাছপালা বেশি ছিল, সেসব জায়গা সাধারণত তুলনামূলক ঠান্ডা থাকত। এটি খুব স্বাভাবিক, কারণ গাছ ছায়া দেয় এবং বাতাসকে কিছুটা ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু ২০২৩ সালে মেট্রোরেল করিডরের ভেতরে এই সম্পর্ক কিছু জায়গায় বদলে গেছে। কিছু এলাকায় সামান্য সবুজ থাকলেও সেখানকার পৃষ্ঠতাপমাত্রা বেশি দেখা গেছে।
গবেষকদের ব্যাখ্যা হলো, এসব সবুজ এলাকা এখন আর আগের মতো বড়, ঘন ও ছায়াদানকারী নয়। বরং অনেক জায়গায় ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন সবুজ অংশ রয়ে গেছে, যার চারপাশে কংক্রিট, রাস্তা, ধাতব কাঠামো ও ভবন। ফলে সেই গাছপালা আগের মতো ঠান্ডা রাখার কাজ করতে পারছে না। গবেষণায় শহুরে তাপদ্বীপের তীব্রতাও দেখা হয়েছে। শহুরে তাপদ্বীপ বলতে বোঝায়, শহরের কিছু এলাকা আশপাশের এলাকার তুলনায় বেশি গরম হয়ে ওঠা। গবেষণায় দেখা গেছে, মেট্রোরেল রুটের দুই পাশে ৫০০ মিটার এলাকার মধ্যে অতিরিক্ত গরম বা “চরম তাপদ্বীপ” এলাকা ২০১৫ সালে ছিল প্রায় ২৯.৫ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩৩.৮ শতাংশ। অর্থাৎ মেট্রোরেল করিডর ও তার আশপাশে বেশি গরম এলাকার বিস্তার বেড়েছে।
তাহলে কি মেট্রোরেলই ঢাকাকে গরম করছে?
এই জায়গায় গবেষণাটিকে একটু সতর্কভাবে দেখা দরকার। গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এর মানে এই নয় যে মেট্রোরেল একাই ঢাকাকে গরম করছে। একই সময়ে ঢাকায় আরও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। উঁচু ভবন বেড়েছে, কংক্রিটের রাস্তা ও স্থাপনা বেড়েছে, যানবাহন বেড়েছে, নির্মাণকাজ বেড়েছে, এবং সামগ্রিকভাবে নগরায়নও বেড়েছে। এসব পরিবর্তনও শহরের তাপমাত্রা বাড়াতে পারে। গবেষকরাও মেট্রোরেলকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখাননি। বরং তাঁরা দেখিয়েছেন, মেট্রোরেল করিডরের আশপাশে যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেখা গেছে, তা গাছপালা কমে যাওয়া, কংক্রিটের বড় কাঠামো তৈরি হওয়া এবং রাস্তা-ভবন-ধাতব পৃষ্ঠ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। তাই এই গবেষণাকে “মেট্রোরেলই ঢাকাকে গরম করছে” এভাবে সরাসরি বলা ঠিক হবে না। বরং বলা ভালো: মেট্রোরেলের মতো উঁচু কংক্রিটের অবকাঠামো, যদি যথেষ্ট সবুজায়ন ও তাপ কমানোর পরিকল্পনা ছাড়া তৈরি হয়, তাহলে সেটি শহরের কিছু এলাকায় গরম বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণাটি সেই সম্ভাবনার শক্তিশালী প্রমাণ দিয়েছে।
এই গবেষণার একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো ব্যবহৃত স্যাটেলাইট ছবির পার্থক্য। ভূমির পৃষ্ঠতাপমাত্রা হিসাব করা হয়েছে Landsat-8 স্যাটেলাইট থেকে। এই স্যাটেলাইটের ল্যান্ড সার্ফেস টেম্পারেচার ছবিতে প্রতি ৩০*৩০ মিটার এলাকা একটি পিক্সেল হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ খুব ছোট জায়গার তাপমাত্রা আলাদা করে বোঝা কঠিন। অন্যদিকে, গাছপালা বা সবুজ আচ্ছাদন বোঝার জন্য যে RapidEye ও PlanetScope স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো অনেক বেশি সূক্ষ্ম ৩*৩ থেকে ৫*৫ মিটার পর্যন্ত। তাই গবেষকেরা একদিকে তুলনামূলক কম সূক্ষ্ম রেজোল্যুশনের ছবি, অন্যদিকে বেশি সূক্ষ্ম সবুজ আচ্ছাদনের ছবি একসঙ্গে মিলিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। এতে সামগ্রিক পরিবর্তন বোঝা যায়, কিন্তু খুব ছোট জায়গার তাপমাত্রা নিয়ে নিখুঁত সিদ্ধান্ত দেওয়া কঠিন। সহজ করে বললে, ৩০ মিটার রেজল্যুশনের তাপমাত্রার ছবিকে ৩ মিটারে রূপান্তর করলেই ছবির আসল তথ্য ৩ মিটার হয়ে যায় না। ছবিটি দেখতে সূক্ষ্ম মনে হতে পারে, কিন্তু ভেতরের তাপমাত্রার তথ্য তখনও মূলত ৩০ মিটার পর্যায়ের। গবেষকেরা নিজেরাও এই সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন। আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো, গবেষণায় মাঠ পর্যায়ে সরাসরি পৃষ্ঠতাপমাত্রা মেপে স্যাটেলাইটের ফল যাচাই করা হয়নি। স্যাটেলাইট ছবি দিয়ে শহরের বড় পরিবর্তন বোঝা যায়, কিন্তু মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা আরও জটিল। যেমন মেট্রোরেলের পিলারের পাশে, স্টেশনের নিচে, বাসস্ট্যান্ডে, ফুটপাথে, ছায়ার মধ্যে বা খোলা রাস্তায় গরমের অনুভূতি একরকম নাও হতে পারে। তাই ভবিষ্যতে যদি ড্রোন এবং থার্মাল সেন্সর ব্যবহার করে ছবি তোলা যায়, অথবা রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় সরাসরি তাপমাত্রা মাপার সেন্সর বসানো যায়, তাহলে এই ধরনের গবেষণার ফলাফল আরও শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য হবে।
এই গবেষণার বড় গুরুত্ব হলো, এটি মেট্রোরেলকে শুধু যাতায়াতের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখেনি। সাধারণত আমরা মেট্রোরেল নিয়ে ভাবি এটি যানজট কমাবে, সময় বাঁচাবে, মানুষ দ্রুত চলাচল করতে পারবে। কিন্তু এই গবেষণা দেখিয়েছে, মেট্রোরেলের মতো উঁচু ও লম্বা কংক্রিটের কাঠামো শহরের স্থানীয় পরিবেশেও প্রভাব ফেলতে পারে। সহজভাবে বললে, একটি মেট্রোরেল লাইন শুধু রাস্তার ওপর দিয়ে যায় না; এটি রাস্তার ছায়া, বাতাস চলাচল, গাছপালা, কংক্রিটের পরিমাণ এবং আশপাশের তাপমাত্রার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আগে ঢাকার গরম নিয়ে অনেক গবেষণায় পুরো শহর, ভূমি ব্যবহার, ভবন বা সবুজ আচ্ছাদন দেখা হয়েছে। কিন্তু এই গবেষণায় একটি নির্দিষ্ট মেট্রোরেল রুটকে আলাদা করে দেখা হয়েছে। এটাই গবেষণাটিকে নতুন ও নীতিনির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। তবে এই গবেষণা মেট্রোরেলের বিরুদ্ধে নয়। বরং এর মূল বার্তা হলো: গণপরিবহন দরকার, মেট্রোরেলও দরকার; কিন্তু এগুলো এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে শহরের গরম আরও না বাড়ে। উন্নয়ন দরকার, কিন্তু সেই উন্নয়ন যেন শহরকে কম বাসযোগ্য না করে তোলে।
এ জন্য মেট্রোরেল স্টেশন ও আশপাশের ভবনে সবুজ ছাদ করা যেতে পারে। মেট্রোরেলের পিলারে লতানো গাছ লাগানো যেতে পারে। রাস্তার পাশে বড় ছায়াদানকারী গাছ ফিরিয়ে আনতে হবে। কংক্রিট ও ধাতব পৃষ্ঠে এমন উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে, যা কম তাপ ধরে রাখে। স্টেশন এলাকায় ছায়া, বসার জায়গা, ছোট জলাধার, পথচারীবান্ধব ফুটপাত এবং সবুজ নকশা রাখা জরুরি। ঢাকার ভবিষ্যৎ MRT লাইনগুলোর পরিকল্পনায় এই শিক্ষা কাজে লাগানো উচিত। কারণ যানজট কমানো যেমন জরুরি, তেমনি ঢাকাকে বাসযোগ্য, সহনীয় ও কম গরম শহর হিসেবে রাখা আরও জরুরি।
মূল গবেষণাটি পড়ুন এখানে
